উৎকণ্ঠিত হৃদয়

শুনরে হাওয়া, দক্ষিণা হাওয়া,
বল সখি কি কিছু বলেছে?
মৌন কেন? বলনা রে তুই,
সখি কি আমায় ডেকেছে?

প্রজাপতি তুই যা রে উড়ে,
দেখ সখি কি আমার সেজেছে,
নূপুর পায়ে, আলতা দিয়ে
আর কপালে কি টিপ দিয়েছে?

হে বৃষ্টি, অপূর্ব সৃষ্টি,
সখি কি তোমার জলে ভিঁজেছে?
ভেঁজা চুলে, ব্যাকুল হয়ে
প্রেমের গান কি সে গেয়েছে?

সবাই মৌন কেন হলে?
আরে! কিছু ত একটা যাও বলে।
লেখক: মো: মহিবুর রহমান মুহিব

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, শাবিপ্রবি

প্রথম সাক্ষাৎ

যেদিন পড়ন্ত বিকেলে গোধূলিলগ্নে
প্রথম হাতখানি সখি মোর ধরেছিল,
যেদিন সলজ্জ হাসিমাখা মুখে
নয়নে নয়ন সখি রেখেছিল,
সেদিন দুখানি হৃদয় হারায়নি তাদের দিশা,
পবিত্র ছিল সেদিনের ভালবাসা।

ধরে সেদিন স্নিগ্ধ হস্তদুখানি
নয়নে দেখে স্নেহমুখখানি
প্রাণে জেগেছিল স্নেহমাখা সুখের ব্যথা,
নয়নে নয়নে বলছিল সখি কত যে কথা;
তবু দুরন্ত দুখানি হৃদয় হারায়নি তাদের দিশা,
পবিত্র ছিল সেদিনের ভালবাসা।

আখিঁ পানে চেয়ে চেয়ে অস্ত হয়েছিল রবি,
অন্ধকারে দিগুণ জ্বলছিল সখির মুখোচ্ছবি;
স্নেহমুখ দেখে দেখে হৃদয় যাচ্ছিল ক্ষয়ে,
বেধেঁছিল মোর হৃদয় সে তার হৃদয় দিয়ে;
তবু দুরন্ত দুখানি হৃদয় হারায়নি তাদের দিশা,
পবিত্র ছিল সেদিনের ভালবাসা।
লেখক: মো: মহিবুর রহমান মুহিব

শিক্ষার্থী: ইংরেজি বিভাগ, শাবিপ্রবি

শুধু তোমায় ভালবেসে

শুধু তোমায় ভালবেসে
কল্পনায় ভোরের পাখির বেশে
কুহুসুরে তোমার ঘুম ভাঙ্গাই,
প্রেমের রশ্মি দিয়ে
সূর্যের কিরণ হয়ে
তোমায় খুব আদরে আমি জাগাই।
শুধু তোমায় ভালবেসে
কল্পনায় বৃষ্টি রূপে এসে
তোমায় প্রেমের জলে ভেঁজাই,
নূপুর পায়ে ঝরে
আলতু চুম্বন করে
আমি তোমার হৃদয় ছুঁয়ে যাই।
শুধু তোমায় ভালবেসে
কল্পনায় রাতের ঐ আকাশে
নক্ষত্র হয়ে আলো জ্বালাই,
প্রেম শক্তির বলে
মিটমিট করে জ্বলে
আমার সৌন্দর্য্যে তোমায় ভুলাই।

লেখক: মো: মহিবুর রহমান মুহিব

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, শাবিপ্রবি

মধুময় যামিনী

বৃষ্টি ঝরছে ঝুমঝুম
অর্ধরাত্রি তাই নির্ঘুম,
দরজার ওপারে শুনি কার ধ্বনি;
দরফর করে উঠল হিয়া
ভাবলাম নিঃশ্চয়ই মোর প্রিয়া,
মধুময় হবে আজিকার যামিনী,
দরজার ওপারে শুনি কার ধ্বনি।

স্তব্ধ চারিধার
সাথে তিমির অন্ধকার,
মাতাল বায়ুতে নিভে গেল আলো;
বৃষ্টির জল গায়ে মেখে
পাশে কোন পাখি যেন ডাকে,
কোমল এ রাত্রিকে বেসে ভাল,
মাতাল বায়ুতে নিভে গেল আলো।

দরজা খুলে নীরব দু আখিঁ
অন্ধকার হেরিয়া চাঁদ দেখি,
নয়ন ঝলসানো মনোহারিণী;
হাসিমাখা নয়নে
সতেজ স্নিগ্ধ প্রাণে,
সে যেন ফুটন্ত কোমল কামিনী,
মধুময় হবে আজিকার যামিনী।

লেখক: মো: মহিবুর রহমান মুহিব

শিক্ষার্থী: ইংরেজি বিভাগ, শাবিপ্রবি।

প্রেমিকাহারা প্রেমিকের প্রলাপ

তুমি কি জান?
তুমি নেই বলে পাশে,
চাঁদটা ঠিকমত আলো দেয় না
রাতেরই আকাশে।
তারাগুলোও হয়েছে ভীষণ ফাঁকিবাজ;
মিটমিট করে জ্বলেনা আর;
যেমনিভাবে জ্বলত পূর্বে;
যখন আমার কাঁধে মাথা রেখে
তোমার কোমল লাবন্যময় হাতখানি
আকাশ পানে তুলে___
একটা একটা করে তুমি
ঘুমন্ত ভঙ্গিতে তারা গুনতে
আর আমি হাসতাম।

তুমি কি জান?
তুমি নেই বলে কাছে,
দূষিত আজ সমগ্র পৃথিবী,
বল দেখি কী করে মানুষগুলো এখন বাঁচে?
তোমার প্রশ্বাসের কার্বন-ডাই-অক্সাইড না পেয়ে
গাছপালাগুলো বিদ্রোহ করেছে,
ঠিকমত অক্সিজেন দেয় না তারা,
বিষাক্ত গ্যাসে পরিপূর্ণ আজ এ পৃথিবী;
আজ শুধু আমি না___
সংকটে পৃথিবীর প্রাণীকুল।

তুমি কি জান?
তুমি নেই বলে পাশে,
জন্ডিসাক্রান্ত রোগীর মত__
খাবার শুকলেই বমি আসে;
জ্বরাক্রান্ত রোগীর মত__
সকল সুমিষ্ট খাবারগুলোও আজ তেতো মনে হয়;
নিদ্রাহীন রোগীর মত ___
জেগে থাকি সারারাত;
অনিদ্রায়, অল্পাহারে,
মরেও বেচেঁ আছি এ ভব সংসারে।

লেখক: মো: মহিবুর রহমান মুহিব

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, শাবিপ্রবি।

গভীরে অনুভব

অধরাম্মৃত, বুকের ফুটন্ত জবা,
মসৃণ ত্বক, লাবন্যময় গ্রীবা;
আর তৃষ্ণার অমিয় জল নিয়ে,
প্রেমে অথির হয়ে,
মাধবী রাতে সখি মোর ছুটে আসে;
মোরে প্রচণ্ড ভালবেসে।
মুখে নেই কোন কথা,
চোখে চোখে বলে যেন ব্যথা,
দুটি প্রাণের হঠাৎ ঘন নিঃশ্বাস,
ঠোঁটে ঠোঁটে তৃষ্ণা রোধের ক্ষুদ্র প্রয়াস;
অধরের অমৃত লয়ে হৃদি হয়না তবু শান্ত,
প্রেমে বিভোর দুটি প্রাণ হয় বড়ই অশান্ত;
গভীরের গভীরে করতে চাই অনুভব,
যা আছে তার সে ও দিতে চায় সব।

লেখক: মো: মহিবুর রহমান মুহিব

শিক্ষার্থী, ইংরেজি বিভাগ, শাবিপ্রবি।